দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত সেনাসদস্যরা ক্রমান্বয়ে সেনানিবাসে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
অবশ্য তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই বার্তা দেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জানান, বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের সিংহভাগ জেলায় বিশালসংখ্যক সেনাসদস্য নিয়োজিত থাকলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বড় একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট সদস্যরাও পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরে আসবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়। বর্তমানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার নিরাপত্তায় সেনাসদস্যরা নিয়োজিত আছেন। জনস্বার্থে সরকার মনে করলে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের সেবা বজায় রাখা হবে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্যই হলো যুদ্ধের জন্য নিজেদের সদা প্রস্তুত রাখা। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেনানিবাসে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের মহড়া চালানো আবশ্যক। দীর্ঘদিন দেশের নানা প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকার পরও সদস্যদের লক্ষ্যভেদ করার পারদর্শিতা অক্ষুণ্ণ থাকায় তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ের কঠিন দায়িত্ব সামলানোর পরও প্রতিযোগীদের এমন চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন, লজিস্টিকস এরিয়া ও বিশেষায়িত ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আয়োজনে ১৭ পদাতিক ডিভিশন শীর্ষ স্থান অর্জন করে এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।