শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে : মির্জা ফখরুল

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ বর্তমানে আর্সেনিক দূষণের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন বলে তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে : মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ বর্তমানে আর্সেনিক দূষণের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন বলে তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মালটিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯’ শীর্ষক এক জরিপ প্রতিবেদনের বরাতে তিনি এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেন।

একই সাথে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, এই জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার পক্ষ থেকে উত্থাপিত একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সমবায় মন্ত্রী এই লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি আইনসভায় জানান, গ্রামীণ জনপদে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট দূর করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একাধিক মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এসব চলমান উদ্যোগের সুবাদে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে আনুমানিক ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি সম্পূর্ণ আর্সেনিকমুক্ত বিকল্প পানির উৎস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি বিতরণ, বৃষ্টির জল ধরে রাখার আধুনিক ব্যবস্থা, নতুন জলাশয় বা পুকুর খনন ও সংস্কার এবং সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার যুক্ত করার মতো বহুমুখী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জোরালো তৎপরতার কারণে আগামী দিনগুলোতে এই সংকটের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার যেসব টেকসই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে, তার ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আর্সেনিক দূষণের শিকার হওয়া মানুষের বর্তমান হারটি ১১ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৫ থেকে ৬ ভাগে নেমে আসবে।

গৃহীত এসব প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এখন পর্যন্ত অর্জিত বিভিন্ন সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি সুপেয় পানির উৎস পুরোপুরি সচল করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি উৎস প্রস্তুত করা হয়েছে। অপরদিকে, ইতোমধ্যে সমাপ্ত হওয়া পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি এবং গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৮ হাজার ২৩৫টি পানির উৎস সফলভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিক গ্রামীণ পানি সরবরাহ কর্মসূচির আওতায় আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি নিরাপদ পানির উৎস চালু করার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।