বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দেশের ভিতর যেন আরেক দেশ জঙ্গল সলিমপুর: এবার চার হাজার সদস্যের যৌথ বাহিনীর অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে বড় পরিসরের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

দেশের ভিতর যেন আরেক দেশ জঙ্গল সলিমপুর: এবার চার হাজার সদস্যের যৌথ বাহিনীর অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে বড় পরিসরের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। 

সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন দিক দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন বাহিনীর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অভিযানের সময় কেউ এলাকা ত্যাগ করতে না পারে। বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫৫০ সেনাসদস্য, ১৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন সদস্য, ৪০০ র‍্যাব সদস্য এবং ১২০ বিজিবি সদস্য। তাদের সহায়তায় রয়েছে সাঁজোয়া যান (এপিসি), ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টার। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও ইউএভি ফুটেজের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী পুরো অভিযানের সমন্বয় করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান এটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শুরু হওয়া এই অভিযান আগামীকাল বিকাল পর্যন্ত চলতে পারে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭–এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। সেই ঘটনায় আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। ওই ঘটনার পর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এবং সরকার সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০ হাজার বসতিতে আনুমানিক দুই লাখ মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পাহাড় দখল করে সেখানে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি প্লট বাণিজ্য এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোকন উদ্দিন ও মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকটি গ্রুপ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। দুর্গম পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০১৭ ও ২০২২ সালেও প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করেছিল। তবে নানা কারণে সেগুলো পুরোপুরি সফল হয়নি। এবার সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে বড় আকারের এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।