ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে দোকানে বসার ভঙ্গি নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে তাঁর নিজ কক্ষে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে।
সোমবার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আক্রান্ত অভয় কুমার সিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের ঝলক দাস, মার্কেটিং বিভাগের রিপন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাগর এবং ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের চন্দন। এদের মধ্যে তিনজন ২০২১-২০২২ সেশনের এবং একজন অভয়ের নিজ ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অভয় উল্লেখ করেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে হলের অন্য ভবনে থাকতে তাঁর বেশ কষ্ট হতো। পরবর্তীতে কষ্ট কিছুটা লাঘবের উদ্দেশ্যে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রবীন্দ্র ভবনের একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হন। তিনি জানান, গত ২৪ মে সন্ধ্যায় হলের নিচের একটি চায়ের দোকানে হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে ফাঁকা জায়গায় পা তুলে বসেছিলেন তিনি। ওই সময় অভিযুক্ত চন্দন ও ঝলক দোকানে প্রবেশ করেন এবং পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরেও অভয়কে পা নামিয়ে বসতে বলেন। একপর্যায়ে অন্য পায়ে তীব্র সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অভয় একটি পা নিচে নামিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকানে কোনো প্রকার হাতাহাতি না হলেও পরবর্তীতে অভয় যখন বাইরে থেকে নিজের কক্ষে ফিরে আসেন, তখন অভিযুক্তরা আচমকা তাঁর রুমে চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অভয়কে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ভবিষ্যতে ওই চায়ের দোকানে না যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিজের কক্ষে ঢুকে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর এমন দলবদ্ধ হামলাকে অমানবিক ও হলের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে পাঠানো হবে। তবে এই বিষয়ে প্রক্টর কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।