বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঢাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয় দফা দাবি, রেজিস্ট্রার অবরুদ্ধ

ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

ঢাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয় দফা দাবি, রেজিস্ট্রার অবরুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা রেজিস্ট্রারকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি সক্রিয় সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কর্মচারী ঐক্যপরিষদ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার বা সমমান পদমর্যাদার ১৮৭ জন কর্মকর্তাকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি প্রদান করা। এ ছাড়া ২০২৫ সালের পদোন্নতির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা, অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬২ বছর করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বজায় রেখে নতুন পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

ঐক্যপরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে বলে তারা সতর্ক করেছেন। এই একই দাবিতে উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ জানান, নিয়মানুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট অনুপাতে পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৮৭ জন আবেদনকারীর সবার পদোন্নতি দাবি করছে। তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শে সিন্ডিকেট ভাইভার মাধ্যমে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি ভাইভা হওয়ার কথা থাকলেও ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্যের পদত্যাগের ফলে নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থমকে যায়।

রেজিস্ট্রার আরও যোগ করেন, বর্তমান উপাচার্যের কাছে বিষয়টি পুনরায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন উপাচার্য সময় দিলেই স্থগিত থাকা ভাইভা বোর্ড শুরু করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতার অবকাশ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।