ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে লেবানিজ স্বাস্থ্য প্রশাসন ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। নতুন করে চালানো এই বিমান হামলার জেরে সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে বৈরী পরিস্থিতি আরও বেগতিক রূপ নিয়েছে।
লেবাননের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেইর কানুন আল-নাহর এলাকার একটি বসতবাড়িতে মঙ্গলবারের ওই হামলায় একই পরিবারের ও আশেপাশের ১২ জন বাসিন্দা প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। বোমাবর্ষণের পর ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়া মানুষদের বের করে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করেন স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের বিষয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছিল, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেই তারা এই হামলা চালাচ্ছে।
একই দিনে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিজবুল্লাহ। সেই অভিযানে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উভয় পক্ষের এই সাম্প্রতিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে রাজি হয়েছে। এমনকি আগামী মাসে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার দিনক্ষণও নির্ধারিত রয়েছে।
চলতি বছরের ২ মার্চ ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে লেবানন জড়িয়ে পড়ে। সে সময় ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ রকেট ছুড়লে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। তাদের দাবি ছিল, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রাণহানির বদলা নিতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর counter-action হিসেবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে আকাশপথের পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করে।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি শান্তি ফেরেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের জনপদগুলোতে প্রায় নিয়মিতই চলছে রকেট ও বিমান হামলা, যা স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।