শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দলীয় ট্যাগ দিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করা হচ্ছে : নাদিম মাহমুদ

সাংবাদিকদের ওপর দলীয় লেবেল সেঁটে দিয়ে তাদের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল প্রকট করা হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ।

দলীয় ট্যাগ দিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করা হচ্ছে : নাদিম মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ওপর দলীয় লেবেল সেঁটে দিয়ে তাদের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল প্রকট করা হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ।

তিনি মনে করেন, কোনো সাংবাদিক যদি ব্যক্তিগতভাবে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করার পরেও পেশাগত কাজে বস্তুনিষ্ঠতা ও সততা বজায় রাখেন, তবে তাকে সম্মান জানানো এবং তার কাজ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নাদিম মাহমুদ এসব কথা বলেন। সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমকে গুলিয়ে ফেলার বর্তমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাদিম মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন বিডিনিউজে সাংবাদিকতা করার সময় একজন জ্যেষ্ঠ সহকর্মী তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন সংবাদের সঙ্গে নিজের সক্রিয়তাবাদ বা অ্যাক্টিভিজম কখনো মিশিয়ে না ফেলেন। তিনি জানান, সেই সময় থেকেই তিনি সচেতনভাবে চেষ্টা করেছেন সংবাদে যেন কেবল বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তই থাকে, কোনো ব্যক্তিগত পক্ষপাত না ঢোকে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অনেক সাংবাদিক নিজেই অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকা পালন করছেন এবং অন্য সহকর্মীদের দলীয় তকমা দিয়ে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা সারাদিন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীর মতো আচরণ করেন এবং মিডিয়া হাউস দখলের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, তারাই এখন নিরপেক্ষতার বুলি আউড়াচ্ছেন এবং অন্যদের আদর্শিক সাংবাদিকতার সবক দিচ্ছেন। এমন দ্বিমুখী আচরণের মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করাটা ভিত্তিহীন বলে তিনি মনে করেন।

নাদিম মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ; তাদের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক সমর্থন থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সংকট তখনই ঘনীভূত হয় যখন সেই রাজনৈতিক দর্শন সংবাদের ওপর প্রভাব ফেলে কিংবা সাংবাদিক যখন সংবাদ সংগ্রহের সময় রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর বাইরেও যদি কেউ পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস না করে কাজ করেন, তবে তাকে বিচার করা উচিত তার সাংবাদিকতার মান দিয়ে, রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে নয়। পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ হলে যে কেউ প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন—এমনটাই মনে করেন এই গবেষক।