রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দুবাইয়ে ভয়াবহ হামলার কারণ জানাল ইরান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে একটি জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

দুবাইয়ে ভয়াবহ হামলার কারণ জানাল ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে একটি জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

সোমবারের এই হামলার জেরে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাই কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের সকল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে একটি তেলের ট্যাংক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলার দায় স্বীকার করে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল ঘাঁটি ‘খারগ দ্বীপে’ হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেছে। মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ অভিহিত করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমিরাতের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।

রোববার থেকেই দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান। দুবাই মেরিনা এবং আল সুফৌ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া ফুজাইরা তেল টার্মিনালে চালানো আরেকটি ড্রোন হামলায় জ্বালানি উত্তোলনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সেখান থেকে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে এবং এই ঘটনায় জর্ডানের এক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরান প্রায় ১ হাজার ৮০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন এবং তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে লাগাতার এই উসকানির মুখেও আমিরাত সরকার এখন পর্যন্ত সংযম প্রদর্শনের কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তারা ধৈর্য ধরছেন, তবে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

উল্লেখ্য, একই দিনে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত বর্তমানে এক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে মোড় নিয়েছে।