বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রবল বিস্তারের সময়ে সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে বড় করে তোলা মায়েদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত ‘গরবিনী মা ২০২৬’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রযুক্তির এই যুগে ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি প্রজন্মের সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মায়েদের জন্য সন্তানদের সঠিক পথে রাখা আরও জটিল হবে উল্লেখ করে তিনি আহ্বান জানান, যেন নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির নতুন জ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে নিজেদের এগিয়ে নিতে পারে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত ১৩তম এই অনুষ্ঠানে সন্তানের সাফল্যের পেছনে নেপথ্য কারিগর হিসেবে অবদান রাখায় ১১ জন মায়ের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত মায়েদের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ এবং সন্তানদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ বছর যারা এই সম্মাননা পেয়েছেন তারা হলেন:
প্রশাসন ক্যাটাগরিতে রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা বেগম ফরহাত ইসলাম; আইন ও বিচার বিভাগে বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলামের মা বেগম রোকেয়া রশীদ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের মা মোসা. রাজিফা আজাদ।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক তানিয়া হকের মা সেলিমা হক; সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলামের মা রাজিয়া আহমেদ এবং চিকিৎসা সেবায় অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা সরস্বতী প্রসাদ এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে শিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা সায়মা মনির মিনু; অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিন এবং অভিনেতা ও পরিচালক জিয়াউল হক পলাশের মা ফাতেমা আক্তার কাজলকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া অদম্য মেধাবী কোটায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুম ইসলামের মা শিরিন আক্তারকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।