শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

এবার পুরো পারস্য উপসাগরে মাইন বসানোর হুমকি ইরানের

ইরানের দক্ষিণ উপকূল বা কোনো দ্বীপে বহিঃশত্রুর হামলার চেষ্টা হলে পুরো পারস্য উপসাগর মাইন পেতে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

এবার পুরো পারস্য উপসাগরে মাইন বসানোর হুমকি ইরানের
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণ উপকূল বা কোনো দ্বীপে বহিঃশত্রুর হামলার চেষ্টা হলে পুরো পারস্য উপসাগর মাইন পেতে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিল (প্রতিরক্ষা পরিষদ) এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের উসকানি বা আক্রমণের জবাবে পারস্য উপসাগরের সমস্ত প্রবেশপথ ও নৌ-যোগাযোগের রুটে বিভিন্ন প্রকার অত্যাধুনিক নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে।

ইরানি প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, এই মাইনগুলোর মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা পুরো পারস্য উপসাগরকে কার্যত অচল করে দেবে। ১৯৮০-এর দশকের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সে সময় শতাধিক মাইনসুইপার জাহাজ ব্যবহার করেও সামুদ্রিক মাইন অপসারণে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস যেন কেউ ভুলে না যায়। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার ‘হুমকি প্রদানকারী পক্ষকেই’ বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এছাড়া যুদ্ধরত নয় এমন দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথ হিসেবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তার মেয়াদ আজ রাতেই শেষ হচ্ছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পারস্য সাগরে মাইন বসানোর এই চরম বার্তা দিল ইরান। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করলে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। জবাবে তেহরান এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে।