আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশের উপকূলভাগ এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ঘরমুখী মানুষের নৌভ্রমণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এই বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার রাজধানী ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।
বাহিনীর প্রধান উল্লেখ করেন যে, সূচনালগ্ন থেকেই উপকূল ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের সুরক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্টগার্ড। নৌপথে যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে বাহিনীর নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার এই সময়ে সাধারণ মানুষ যখন স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন, ঠিক তখনই জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় কোস্টগার্ডের প্রতিটি সদস্য দিনরাত মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
মহাপরিচালক আরও জানান, ঈদের এই মৌসুমে নৌপথে যাত্রী ও নৌযানের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাহিনীর আওতাভুক্ত ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ভোলা, মোংলা, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও নৌরুটগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের নৌ দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ডের দক্ষ ডুবুরি দলকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তার কৌশলগত দিকগুলো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করতে বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি দল নিয়োজিত রয়েছে। একই সঙ্গে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও জলযান পরীক্ষা এবং যাত্রীদের মালামাল তল্লাশির মতো বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নৌপথে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি কিংবা যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে বাহিনীর সদস্যরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
যাত্রী সাধারণের সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে কোস্টগার্ড প্রধান বলেন, নৌভ্রমণ নিরাপদ করতে সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চ বা নৌকায় না উঠতে এবং ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড মাঠে থেকে তদারকি করছে। এসব উদ্যোগের ফলে ঈদে সাধারণ মানুষের নৌপথের যাত্রা সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, নৌপথে যেকোনো ধরনের জরুরি সহায়তার জন্য কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।