শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

একটি দল নিজের পায়ে কুড়াল মারার চেষ্টা করছে: শিশির মনির

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতের রুল জারির প্রেক্ষাপটে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

একটি দল নিজের পায়ে কুড়াল মারার চেষ্টা করছে: শিশির মনির
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতের রুল জারির প্রেক্ষাপটে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংস্কার প্রক্রিয়া যদি অবৈধ প্রমাণিত হয়, তবে বর্তমান সরকার, সংসদ নির্বাচন ও বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর বৈধতাও সংকটের মুখে পড়বে।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যত নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জুলাই সনদ এবং ৩০টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোই অবৈধ হয়ে যায়, তবে নির্বাচনের ভিত্তি কী থাকবে? তার মতে, রাজনৈতিকভাবে মীমাংসাযোগ্য বিষয়গুলোকে সুকৌশলে আদালতের অধীনে নিয়ে আসা অতীতের অভিজ্ঞতায় কখনোই ইতিবাচক ফল দেয়নি। যারা এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা করেছেন, এর পরিণতির দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবী পৃথকভাবে দুটি রিট দায়ের করেন। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। অন্যদিকে, আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ সংক্রান্ত চিঠির বৈধতা নিয়ে রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত চারটি পৃথক রুল জারি করেছেন। রুলগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কেন অসাংবিধানিক হবে না, সংসদ সদস্যদের শপথের চিঠির বৈধতা, গণভোটের চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের যৌক্তিকতা এবং ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা যাচাই।

শিশির মনির আরও অভিযোগ করেন, এই রিট মামলাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের একাংশের প্রচ্ছন্ন সংশ্লিষ্টতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকার সংসদকে পাশ কাটিয়ে আদালতের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করে বিশেষ কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারের এই অবস্থানকে 'দ্বিচারিতা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, যা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল; অন্যদিকে পরোক্ষভাবে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোকেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।