শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ফাতাহ কমব্যাটের ৭ সদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ফাতাহ কমব্যাট’–এর সাত সদস্যকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

ফাতাহ কমব্যাটের ৭ সদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ফাতাহ কমব্যাট’–এর সাত সদস্যকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে তৎপর ছিল। তাঁর ভাষ্য, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তারা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের পরিকল্পনা করছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান। তারা আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো ভিত্তি নেই। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিতেন এবং তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামিরা আদালতে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেননি।

মামলার নথি ও পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান, মো. বায়োজিত এবং মো. তাহসীন ইসলাম।

আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৬, ৭, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এবি সিদ্দিকী। এ মামলায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামে একটি সংগঠনের তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘FATAH COMBAT SYSTEM’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে সদস্য সংগ্রহ এবং উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

পুলিশের দাবি, সংগঠনের সদস্যরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে ছদ্মনামে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসীন ইসলামের কাছে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, তাদের যোগাযোগব্যবস্থা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই এবং পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ বিবেচনায় আদালত তাঁরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।