ফেনী সদর উপজেলায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে তারই নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাইফুদ্দিন শিবলু শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং ফেনী আলীয়া মাদরাসা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় একটি ইটভাটায় মাটি সরবরাহকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। এতে বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় ভীতি প্রদর্শনের পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই তারা পেট্রোল ঢেলে বসতবাড়ির কাঁচা ও পাকা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আরফান, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর মোশাররফ হোসেন রিয়াদ, যুবদল নেতা মানিক অপুসহ তাদের অনুসারীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে একটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী একটি পাকা স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই সহিংসতার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে এই অভিযোগের বিষয়ে শর্শদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম জানান, অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ফেনী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত তাবাচ্ছুম গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।