ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই নিবন্ধে তিনি দুই দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
শ্রিংলা তার লেখায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একটি নির্বাচিত সরকারের উত্থান দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক আস্থা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ভারত সংক্রান্ত ইতিবাচক বার্তাকে তিনি বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপির অবস্থান নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকে যায়, তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় নতুন ইতিহাস তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নিবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটির বৈদেশিক ঋণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চার বছরে ৪,৬০০ কোটি থেকে ২,৯০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে তিনি বাংলাদেশের জন্য বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জ্বালানি সহযোগিতা ও আন্তঃসীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন নতুন সরকারের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতি অর্জনেও সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বিএনপির সাফল্য নির্ভর করবে তারা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে পারে কি না তার ওপর। বিশেষ করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭০টির বেশি আসনে জয় এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) উত্থান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, নয়াদিল্লিকে কৌশলগত বাস্তববাদ ও কূটনৈতিক সংযমের মাধ্যমে ঢাকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। ভারতের প্রধান প্রত্যাশা থাকবে সীমান্ত স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং মৌলবাদবিরোধী প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শত্রুতামূলক পরিকল্পনার সহযোগী হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলবে। শ্রিংলার মতে, নতুন সরকার যদি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হয়, তবে ভারতের পক্ষ থেকেও পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক হবে।