শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, এখন থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ‘আইবাস’ পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, এখন থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ‘আইবাস’ পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে একটি বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের কার্ড প্রয়োজন, তাদেরকেই এটি প্রদান করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সর্বজনীন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কারণে রাষ্ট্রের ঋণের বোঝা বাড়ার কোনো ঝুঁকি নেই। পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্টের নামে ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান সরকার অহেতুক বড় প্রকল্পের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়—এমন উদ্যোগকেই প্রাধান্য দেবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রহণ করা সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও এখন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তিনি পরামর্শ দেন যে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তবে কেবল ভাতা প্রদান করলেই হবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির দলকে হারিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের বিতার্কিকরা জয়লাভ করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইসসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।