একটি স্বৈরাচারী ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সাম্য ও ন্যায়ের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক করে গড়ে তোলা এবং সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটানো জরুরি বলে মনে করে সরকার। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রার জন্য মেধা ও নৈতিকতার বিকাশ অপরিহার্য।
আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশেষ বই পড়া কর্মসূচির সমাপনী ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের এই রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মেধার স্বাক্ষর রাখা কৃতি পাঠকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ও সনদপত্র হস্তান্তর করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।
সংস্কৃতি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের গৌরবময় অতীত স্মরণ করে বলেন, ইতিহাসজুড়ে এই ভূখণ্ড তার ধন-ধান্য ও অনন্য ঐতিহ্যের জন্য বিশ্ব দরবারে সমাদৃত ছিল। প্রাচীনকাল থেকেই বহু বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ও ঐতিহাসিক এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন। সময়ের পরিক্রমায় ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞানচর্চা, নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশ এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে সেই গৌরবময় অবস্থান ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
দীর্ঘদিনের জবাবদিহিহীন শাসনব্যবস্থা দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি সাধন করেছে, তা কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি আমূল ও ইতিবাচক সংস্কারের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান প্রশাসন দেশকে একটি নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এই ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজকে আলোকিত করতে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।