বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাজা আজ ক্ষুধার শহর

গাজা উপত্যকা তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। দীর্ঘ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না। শীতে হাজারো মানুষ ত্রাণ ও চিকিৎসা সাহায্যের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের আগে উপত্যকায় জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গাজা আজ ক্ষুধার শহর
এক মুঠো ভাত আর এক টুকরো মাংসের আশায় লাইনে দাড়িয়ে ছিলেন কয়েকশ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকা তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। দীর্ঘ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না। শীতে হাজারো মানুষ ত্রাণ ও চিকিৎসা সাহায্যের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের আগে উপত্যকায় জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার অবস্থা অপরিবর্তিত। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। সীমান্ত খোলার ঘোষণা পাওয়া গেলেও মাঠের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে বাসিন্দারা প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে সংগ্রাম করছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় কয়েকশ মানুষ খাবার পানির জন্য লাইনে দাঁড়ান। একটি মুঠো ভাত এবং এক টুকরো মাংসের আশায় সকাল থেকে কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেটে এসেছেন অনেকে।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি বলছেন, “গাজার জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হল জটিলতা কমিয়ে উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও পুনর্গঠন একসাথে চালাতে হবে।”

পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি গুরুতর। গত এক বছরে তিনটি শরণার্থী শিবির ধ্বংস করেছে ইসরাইল। অভিযানের নামে দমন-পীড়ন ও হত্যার ঘটনা চলছেই। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, তীব্র অভাবে মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র গাজা পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ গাজা’। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এই পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়।

প্রস্তাবিত বোর্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত এই বোর্ডের লক্ষ্য হলো ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা।

স্লাইড শোতে দেখানো হয়েছে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে উঁচু ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা। রাফাহ এলাকায় একটি আবাসিক প্রকল্প হবে এবং ধাপে ধাপে গাজার ২১ লাখ মানুষের জন্য নতুন আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে।