বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতির হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে ছিল রাস্তার পাশে

গাজীপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর এক নেতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতির হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে ছিল রাস্তার পাশে

গাজীপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর এক নেতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশ থেকে কামরুজ্জামান মোল্লাহ (৬৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত কামরুজ্জামান মোল্লাহ মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি সুজনের গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানান সংগঠনটির জেলা সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জানাজা সম্পন্ন করে গাজীপুরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি মামলার কাজে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন কামরুজ্জামান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় সেদিন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আদালত থেকে সরাসরি বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পার হয়ে গেলেও তিনি আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তার মরদেহ উদ্ধারের খবর দেয়।

গাজীপুর মহানগর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রাত ১২টার আগের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কামরুজ্জামান মোল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকায় পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

সুজনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, “কামরুজ্জামান মোল্লাহ একজন প্রবীণ মানুষ। তারপরও আমাদের সংগঠনের জন্য নিবেদিত ছিলেন। দায়িত্বশীল ছিলেন। নৃশংসভাবে তাকে এভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেন বা বাসা ভাড়া সংক্রান্ত কোনো বিরোধ ছিল কিনা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।