রোববার সকালের দিকে বাভি কিছুটা শক্তি হারিয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিলেও আবহাওয়াবিদরা তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ফ্রান্সের ভৌগোলিক আয়তনের সমতুল্য এই সুবিশাল মেঘমালা ও ঝড়ো হাওয়া পূর্ব ও উত্তর চীনের একটি বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে অতি ভারী বর্ষণের কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঝড়টির কেন্দ্রভাগ প্রথম আঘাত হানে ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলবর্তী শহর ইউহুয়ানে। এর ঠিক কিছু সময় পর, মধ্যরাতের দিকে ওয়ানঝৌ অঞ্চলের ইউয়েচিং এলাকায় এটি দ্বিতীয়বারের মতো মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রবল বাতাসের তোড়ে ইউয়েচিং শহরে তেরো শতাধিক গাছপালা ভেঙে পড়েছে, যার মধ্যে সাতশরও বেশি গাছ একদম উপড়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নগরের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র জলজট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উত্তর দিকের পাহাড়ি জনপদে ভূমিধস নামায় বিশাল আকারের পাথরখণ্ড ধসে পড়ে প্রধান সড়কগুলোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
মূল ভূখণ্ড চীনে আঘাত হানার আগে শনিবার দিনের বেলা ঘূর্ণিঝড়টি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলীয় সীমানা ঘেঁষে অতিক্রম করে। সেই সময় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বিশেষ করে উত্তরের মিয়াওলি কাউন্টিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তাইওয়ানের জরুরি সেবা ও দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানো, পা পিছলে পড়ে যাওয়া এবং উড়ে আসা নানা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত ১৩৪ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও এর বড় প্রভাব পড়েছে; পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতির কারণে রোববার ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ও ৬২টি অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান উড্ডয়ন বাতিল করতে হয়েছে। বর্তমানে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা ও রাস্তাঘাট সচল করার কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।