শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে অবৈধ বলা শুরু করব : আসিফ মাহমুদ

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে বর্তমান প্রশাসনকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে অবৈধ বলা শুরু করব : আসিফ মাহমুদ
ছবিঃ সংগৃহীত

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে বর্তমান প্রশাসনকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনরায়ের প্রতিফলন না ঘটলে তারা কালক্ষেপণ না করেই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের দাবি জানান এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের আহ্বান করেন। এ বিষয়ে দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো শীঘ্রই স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে কেবল নির্বাহী বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখা হচ্ছে, অথচ যেখানে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার প্রশ্ন রয়েছে, সেই অধ্যাদেশগুলোই বাতিল করা হচ্ছে। বিএনপিকে সংবিধানের দোহাই দিতে দেখা গেলেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা সরাসরি বিধান লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যেকোনো সময় অপসারণের ক্ষমতা হাতে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। এর ফলে বিরোধী মতের প্রতিনিধিদের সরকারের অনুগত করতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান বিরোধী। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন অর্জনের প্রেক্ষাপটের সাথে তুলনা করে সতর্ক করেন যে, ২৪-এর জনআকাঙ্ক্ষা রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

চলমান বৈশ্বিক সংকট নিরসনে সকল অংশীজনের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও রাজপথে নামা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন। তিনি জানান, শুরুতে তাদের রাজপথের কর্মসূচি বা আন্দোলনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না; বরং তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং স্থানীয় নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের পুনরায় কঠোর আন্দোলনের কথা ভাবতে বাধ্য করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সরোয়ার তুষার, সদস্য জাভেদ রাসিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরা শারমিনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মূলত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতেই দলটির পক্ষ থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।