প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত মান পরিবর্তনে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদের মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, পল্লী অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এজেন্ডা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রেখে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে উন্নত কৃষি সহযোগিতা, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিশেষ 'কৃষি কার্ড' বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্ডের মাধ্যমে সরকার একদম তৃণমূল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ ও ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।
বিগত পাঁচ দশক ধরে পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আঞ্চলিক এই সংস্থাটি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে তার মূল কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে। রাজনৈতিক দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রামীণ জনপদের মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই একাধিক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিরডাপের ৪৭ বছরের দীর্ঘ সেবামূলক ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভকে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বাগত জানান।
মন্ত্রী বলেন, সিরডাপের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আয়োজনটি দেশের জন্য অত্যন্ত বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবারই প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ স্বশরীরে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন।