বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করার জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করার জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, গত ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি রোডে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি।’’

ওই সমাবেশে তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে আলোচিত একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। একইসঙ্গে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথনেরও উল্লেখ করেন।

অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কি সিংয়ের দাবি, মমতার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (মমতা) মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে তিনি দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি তিনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।’’

সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্যদেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পর আমাদের এসটিএফ ধরে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন... এতদিন বলিনি আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বললেন... আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল... আমি সব জানি। আমার হৃদয় সত্য ভান্ডার।’’

অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১ ও ৩৫২ ধারাসহ একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে দাঙ্গায় উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ৬ জন পলাতক বলে জানা গেছে।