ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দেশের মাটিতেই নিশ্চিত করতে হবে—এ দাবি জানিয়ে তাঁর বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন থামবে না, থামানোও যাবে না। তিনি বলেন, “আমরা ওসমান হাদির আদর্শের বাংলাদেশ চাই।”
পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে শহীদ সেলিম চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন মাসুমা হাদি।
সমাবেশে তিনি বলেন, এ দেশে কোনো ধরনের ভিনদেশি দাসত্ব জনগণ মেনে নেবে না। যারা বিদেশি শক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রত্যাখ্যান করবে।
মাসুমা হাদি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও ধৈর্য বজায় রাখা হয়েছিল। অথচ সেখানে পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যমুনার সামনে ১৪৪ ধারা জারির কথা বলা হলেও শাহবাগে তখন কোন ধারা কার্যকর ছিল—সেখানে কেন ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হলো? এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান।
হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে মাসুমা হাদি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত অবশ্যই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই যদি প্রশাসনের এমন ভূমিকা দেখা যায়, তাহলে সেই প্রশাসনের মাধ্যমে কীভাবে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।