শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

‘হাইব্রিডের দাপটে বিএনপিতে কোণঠাসা ত্যাগীরা’

বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দলে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের আধিক্য তৈরি হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা অবহেলার শিকার হতে পারেন।

‘হাইব্রিডের দাপটে বিএনপিতে কোণঠাসা ত্যাগীরা’
ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দলে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের আধিক্য তৈরি হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা অবহেলার শিকার হতে পারেন। এই সংকট নিরসনে বয়সের সীমাবদ্ধতা শিথিল করে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নির্যাতিত কর্মীদের প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল রিসার্চ সেল (এনআরসি) আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের দুই মাসের সফলতা, ব্যর্থতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক লতিফ মাসুম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের যদি উপযুক্ত সম্মান ও অবস্থান না দেওয়া হয় তবে দলের ভবিষ্যৎ কষ্টকর হতে পারে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সারা দেশে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিএনপি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বিশেষ বিসিএস আয়োজনের উদাহরণ টেনে তিনি একই ধরনের সুযোগ তৈরির দাবি জানান।

বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই সময় নির্বাচন হলে বিএনপি প্রায় নিরঙ্কুশ জয় পেত। তবে কিছু মানুষের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও লুটপাটের কারণে দলের জনপ্রিয়তায় কিছুটা টান পড়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব ও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপিকে পুনরায় গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে না দেখে সুস্থ রাজনীতির চর্চা করার আহ্বান জানান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাব রয়েছে। যেখানে বাম বা আওয়ামী ঘরানায় বুদ্ধিজীবীদের সরব উপস্থিতি আছে, সেখানে এই অভাব দূর করতে দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ড. গাজী মিজানুর রহমান ও মো. শরীফ হোসেনসহ এনআরসির অন্যান্য সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন।