বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই রোগপ্রতিরোধী কোনো টিকা গ্রহণ করেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ শিশু কোনো ডোজ টিকা পায়নি। বাকিদের মধ্যে ১৪ শতাংশ কেবল প্রথম ডোজ নিয়েছিল এবং ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ ব্রিফিংয়ে জানান, হামের প্রকোপ মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। কার্যক্রম শুরুর তিন সপ্তাহ পর দেখা যাচ্ছে, ওই এলাকাগুলোতে নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোগ শনাক্তকরণ ও মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, লজিস্টিক ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে মানবিক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য প্রয়োজনীয় টিকার নতুন চালান আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। বর্তমানে প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে না হয়। সংক্রমণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।