পশ্চিমবঙ্গের চলমান ভোটগণনা ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাদের বাড়ির সামনে আগে থেকেই পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকলেও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোটগণনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজেপি গণনায় কারচুপির চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে গণনা চালানো হচ্ছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি কাল থেকেই বলছি প্রথম ২-৩ রাউন্ডে ওদেরগুলো (বিজেপি) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। এটা দেখে ভয় পেয়ে বা হতাশ হয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে আসবেন না।’
গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রায় ১০০টি স্থানে গণনা কার্যক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কল্যাণীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কল্যাণীতে সাতটি মেশিনে গরমিল ধরা পড়েছে। যেখানে ভোটের সংখ্যার কোনো মিল নেই।’
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সব কাউন্টিং এজেন্টদের, আমাদের সব কর্মীদের বলব, মন খারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড কাউন্ট হলেও এটা ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিতে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’
এদিকে নোয়াপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং বীজপুরে সুবোধ অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজে স্থাপিত গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তৃণাঙ্কুর অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনায় অর্জুন সিং ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং তৃণমূলের দুই প্রার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে পুরো ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ এবং ২৪ মে গণনা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।