শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাওরে ডুবেছে ২০০ কোটি টাকার ধান

টানা পানিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসল ডুবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। পচে যাওয়া ধান তুলে কেউ কোনোভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ চারা ওঠা ধান শুকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

হাওরে ডুবেছে ২০০ কোটি টাকার ধান
চারা গজানো ধান বাতাসে মেলে রাখার চেষ্টা কৃষাণীর

টানা পানিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসল ডুবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। পচে যাওয়া ধান তুলে কেউ কোনোভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ চারা ওঠা ধান শুকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ডুবে যাওয়া ও পচে যাওয়া ধান উদ্ধার করতে গিয়ে অনেকেই আরও বিপাকে পড়েছেন। ধান না ফেলে রাখা যাচ্ছে না, আবার শুকিয়ে সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বর্গাচাষীরা। চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ধান দেওয়া, আবাদে নেওয়া ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানো—সব মিলিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাওরজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার টন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গুয়াছুড়া হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কনকনে বাতাসের মধ্যেও শ্রমিকরা কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। তাদের শরীর পলিথিনে মোড়ানো, যাতে ঠান্ডা ও পানির প্রভাব কিছুটা কমে। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক রইছ মিয়া উদ্বেগ নিয়ে ভেসে থাকা ধানের জমির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এবার আবাদ করেছিলেন। এখন তার সামনে তিনটি বড় চিন্তা—চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ধান দেওয়া, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের ভরণপোষণ চালানো।

বয়স্ক কৃষক কমর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কেমনে চলমু পুরুত্তাইনরে লইয়া।’

অন্যদিকে কৃষি বিভাগের হিসাবে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, এতে প্রায় ৫০ হাজার টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২০০ কোটি টাকার কম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, উজান থেকে আসা পানির কারণে নদীর পানি বেড়েছে এবং হাওরের পানি নামতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।