সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বর্তমানে তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালেই এই সংগঠনটি প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও দৃশ্যমান কোনো শক্তিশালী কর্মসূচির পরিবর্তে কেবলই ছবি তোলার মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ দেখা যাচ্ছে।
মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী অভিমত ব্যক্ত করেন যে, হেফাজতের মূল লক্ষ্য ও আদর্শকে যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করার সদিচ্ছা থাকে, তবে অবিলম্বে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এর নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা আবশ্যক। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের মৌলিক দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তাগিদ বলে তিনি মনে করেন।
সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজনের সমালোচনা করে এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ বলেন, এই মুহূর্তে যেকোনো ধরনের ভাঙন হেফাজতের জন্য ক্ষতিকর এবং সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থেই সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। বিভক্তি কেবল সংগঠনকে দুর্বল করবে না, বরং এর মূল উদ্দেশ্য অর্জনের পথকেও বাধাগ্রস্ত করবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মূলত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফীর (রহ.) হাত ধরে গড়ে ওঠা একটি ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম। দ্বীনি স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত এমন একটি সংগঠনে ফাটল ধরলে তা এর সামগ্রিক শক্তিকে হ্রাস করবে।
সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হেফাজতের মূল চেতনার প্রতি যাদের আস্থা রয়েছে, তাদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হলে এই দল কখনোই সমাজে কার্যকর অবদান রাখতে পারবে না। অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, হেফাজতে ইসলাম যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।