রোববার রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বাসভবনে তাঁর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল স্পষ্ট করে বলেন, হেফাজতে ইসলামের সাথে তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লেষ নেই এবং তিনি নিজে এই সংগঠনটিকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের সুরক্ষা প্রদান এবং একে সঠিক মার্গে পরিচালনার লক্ষ্যে নিবেদিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই তিনি হেফাজতকে মূল্যায়ন করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, খুব দ্রুতই এই নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হবে। তবে চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গ্রহণ সম্ভব হয় না, কারণ বর্তমানে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য, রাজনীতি ও নির্বাচন এর পরের বিষয়। চট্টগ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে মানুষ যখন পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, তখন স্থগিত থাকা নির্বাচনগুলো যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, এই সড়কের উন্নয়নযজ্ঞ দ্রুতই শেষ হতে চলেছে এবং কাজ সম্পন্ন হলে এটি একটি আধুনিক মহাসড়কে রূপ নেবে। তবে সড়ক কেবল চওড়া করলেই যে দুর্ঘটনা কমে যাবে তা নয়, এর জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
দেশের নবগঠিত ৫০১তম উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সম্পর্কে মীর হেলাল মন্তব্য করেন, ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার দিক থেকে ফটিকছড়ি অনেক বড় হওয়ায় একে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল। নতুন এই প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের ফলে এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন বরাদ্দ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাবে। আর নতুন উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় স্থাপন করা হবে তা নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, সরকার জনসাধারণের সুবিধা এবং মতামতের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ব্যারিস্টার মীর হেলালের সাথে হেফাজত আমিরের এই বৈঠকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাক্ষাৎকারের সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু তালেব, মাওলানা ইয়াহিয়া এবং নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক এজাহার মিয়া সহ বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় স্তরের নেতৃবৃন্দ।