সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের

দীর্ঘ দুই সপ্তাহের উত্তেজনাকর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তবে আপাতত অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই সপ্তাহের উত্তেজনাকর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তবে আপাতত অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার প্রাক্কালে রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক প্রতিটি জলযানকে অবশ্যই ইরানের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে এই যাতায়াত প্রক্রিয়া পুরোপুরি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের জারি করা বিশেষ নীতিমালার আলোকেই কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই জলপথটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুদ্ধের আগের সেই স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন অবস্থায় ফিরে যেতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে তেহরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই চুক্তির শর্ত হিসেবেই ইরান নিয়ন্ত্রিত উপায়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, বর্তমান কারিগরি সীমাবদ্ধতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই জাহাজ চলাচলের এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর প্রণালি ব্যবহারের জন্য একটি নতুন রুট বা মানচিত্র প্রকাশ করেছে। মাইন আতঙ্কের কারণে ওমান উপকূলের প্রথাগত পথ পরিহার করে জাহাজগুলোকে এখন ইরানের উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্র অনুযায়ী, এই পথ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের একটি পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে, যার একটি অংশ ওমানকেও প্রদান করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে অতিরিক্ত ১ ডলার মাশুল আরোপের চিন্তাভাবনাও চলছে, যা মূলত সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অবকাঠামো মেরামতে ব্যয় করা হবে।