হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না বলে সোমবার সকালে এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে শর্তসাপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ফলে ইরানের যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোর ফি থেকে উসুল হওয়ার পরেই কেবল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগরে একটি ‘নতুন শৃঙ্খলা’ বা রিজিওনাল অর্ডার প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে, এই জলপথের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা স্থায়ীভাবে বদলে গেছে এবং বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য এই পরিবর্তনটি হবে সুদূরপ্রসারী।
ইরানি নৌ কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিসহ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসীমায় বিদেশি শক্তির আধিপত্য বিস্তারের যুগ নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো বহিরাগত শক্তি আর ইরানের নিকটবর্তী সামুদ্রিক পরিবেশে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। তেহরান মনে করে, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কেবল এই অঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর এবং এখানে বাইরের কোনো দেশের উসকানিমূলক বা অবৈধ উপস্থিতির অবকাশ নেই।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে আইআরজিসি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই পারস্য উপসাগরে একটি নিজস্ব ও স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান এই রুটটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।