মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের চাপের হাতিয়ার বা ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করতে ইরানকে সতর্ক করেছে কাতার।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই বিষয়ে কাতারের অনড় অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথটি সচল রাখা অপরিহার্য।
এদিকে তুরস্কও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এই প্রণালিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা ইরানের উচিত হবে না। তিনি আরও জানান যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বৈরিতা অবসানে এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই শান্তি প্রক্রিয়ায় তুরস্ক পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে পাকিস্তান যে মধ্যস্থতা করছে, তাতে কাতার ও তুরস্ক যৌথভাবে সমর্থন দিচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার গতি কমে যাওয়ায় যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই দুই দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
কাতারের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ এড়াতে তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।