হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই আহ্বান প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই জাপান জানিয়ে দিয়েছে, তারা সেখানে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।
সোমবার (১৬ মার্চ) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা দিতে জাপানি নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে টোকিওর কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অচিরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়া শুরু করবে।
এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এই দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে জাপানসহ মিত্র ছয়টি দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন। ট্রুথ সোশ্যালে ওই বার্তা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাই এই দেশগুলো এগিয়ে আসুক এবং নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক; কারণ এটা (হরমুজ প্রণালী) তাদের এলাকা, এই এলাকা থেকেই তারা তাদের জ্বালানির সরবরাহ পায়।”
ট্রাম্পের এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, “আমরা এখনও (হরমুজ প্রণালীতে) নিরাপত্তা জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আইনি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে জাপান স্বাধীনভাবে কী কী করতে পারে, সে সম্পর্কে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।”
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা কী করতে পারি এবং বর্তমান পরিস্থিতি আমদের তা করা উচিত কিনা— সেটি অবশ্যই আলাদা বিষয়।”
ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর জাপানই প্রথম দেশ হিসেবে এই উদ্যোগে অংশ না নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করল। তবে তালিকাভুক্ত অন্য দেশগুলো এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।