শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব
ছবিঃ সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তেহরান। ইরান সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে সংঘাত এড়াতে এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করা হতে পারে। তবে এই সুযোগ সব দেশের জাহাজ পাবে কি না অথবা সেখানে আগে থেকে পেতে রাখা মাইনগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। বিশেষ করে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থান কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাগবিতণ্ডা এখনো থামেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ওপর। যদিও হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের এই পরিকল্পনাটি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার টেবিলে ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে অচলাবস্থার কারণে শত শত কার্গো জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন।

৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথটি কেবল তেল নয়, বরং বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সার পরিবহনের জন্যও অপরিহার্য। এর আগে ইরান এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ কিংবা জলসীমার ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করার মতো কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) বৈঠকে বিভিন্ন দেশ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন টোল আদায়ের চেষ্টা এক বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন এই নমনীয় প্রস্তাবটিকে সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নিজেদের আধিপত্য সুসংহত করেছে এবং ইরানের বাণিজ্য প্রায় অচল করে দিয়েছে। এর বিপরীতে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা লোহিত সাগরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জোটগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।