শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। হামলার পর তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো উসকানি বা সামরিক আগ্রাসন ঘটলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। হামলার পর তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো উসকানি বা সামরিক আগ্রাসন ঘটলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

শনিবার (৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আলি আল-সালেম’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করেছে।

আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালির কিশমি দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে অবস্থিত আইআরজিসির দুটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় আইআরজিসি জানিয়েছে, ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় না করে এবং দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে।

তাদের দাবি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পর একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত করে সেটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাকি তিনটি জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এরপর প্রায় আধঘণ্টা পর, ভোররাত ২টার দিকে মার্কিন ড্রোন কিশমি দ্বীপ ও সিরিকে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়।

আইআরজিসি বলছে, ওই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

এক কঠোর বার্তায় রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি হলে ইরান আরও বড় এবং সীমাহীন প্রতিক্রিয়া জানাবে। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি জোটকে সতর্ক করে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মেহের নিউজ