হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। এ সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার।
লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ, যেখানে কোনো দেশ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। তার মতে, বৈশ্বিক সমুদ্র আইনের আওতায় এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
কুপার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এর অবাধ ব্যবহার বজায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আরোপের কোনো বৈধতা নেই এবং এটি সামুদ্রিক চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন তিনি। কুপার সতর্ক করে বলেন, সেখানে সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সূত্রের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অগ্রিম টোল আদায়ের পরিকল্পনা করেছে ইরান। এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করতে হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকতে পারে।
এছাড়া ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া ইরানের এক বাণিজ্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি