শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন ডেডলাইন ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ সরিয়ে নিতে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে এই জলপথটি বিশ্বের সকল দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন ডেডলাইন ট্রাম্পের
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ সরিয়ে নিতে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে এই জলপথটি বিশ্বের সকল দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টার সময়সীমাটি উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের অবস্থানের আরও কঠোর ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ইরানে অবশিষ্ট কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকবে না।

এর আগে গত শনিবারও এক কড়া বার্তায় ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ নিয়ে একগুঁয়েমি বজায় রাখলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। পারস্য উপসাগরীয় এই জলপথটি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ইরানি নেতৃত্বকে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির হুমকিও প্রদান করেন।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথেই সম্পন্ন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি প্রধান রপ্তানি পথ হওয়ায় একে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই রুটটি বন্ধ থাকলে পশ্চিমা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরান এই জলপথে অবরোধ আরোপ করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছিল যে, এই পথে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলপন্থী কোনো জাহাজ চলাচল করলে তাতে হামলা চালানো হবে। ব্রিটিশ নৌ-নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম, যার ফলে মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে।