কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ এককভাবে কেবল ইরানই সম্পন্ন করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুসারে এই জলসীমায় মাইন সরানোর দায়িত্ব একান্তই ইরানের এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের এই অবস্থান সামনে এলো, যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
জলপথটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি ওমানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কাজেম গারিবাবাদি। ইসলামাবাদ চুক্তিকে ভিত্তি করে আয়োজিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হরমুজ প্রণালির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জলসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইরান যে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়, তা এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ইরানের কোনো ধরনের কারিগরি বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনার সূচি বর্তমানে নির্ধারিত নেই। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠক না হলেও আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে কাতারের সঙ্গে তেহরানের নিয়মিত যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।