মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি অবস্থায় থাকা প্রায় এগারো হাজারেরও বেশি সমুদ্রকর্মীকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতিসংঘ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর জাতিসংঘের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আইএমও এই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আইএমওর প্রধান নির্বাহী আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানিয়েছেন, চলমান এই উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল। এই মিশনটি সফল করতে ইরান, ওমান, আমেরিকাসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলবর্তী দেশ এবং বৈশ্বিক নৌ-পরিবহন খাতের সাথে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। সমুদ্রকর্মীদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সুরক্ষা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান প্রশাসন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে শত শত মালবাহী জাহাজসহ হাজার হাজার সমুদ্রকর্মী মাঝসাগরে আটকা পড়েন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরণের অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। তবে গত সপ্তাহে সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ জানিয়েছে, গত সোমবার প্রায় ছত্রিশটি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ পাড়ি দিয়েছে, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে একক কোনো দিনে সর্বোচ্চ জাহাজ যাতায়াতের নজির।
এদিকে ওমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্রে অতিরিক্ত জাহাজের জটলা দূর করতে এবং যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে আইএমওর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ডেনমার্ক এই অবরুদ্ধ নৌপথটি পুরোপুরি সচল করার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ মেরিটাইম মিশনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জলপথটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ একটি মুক্ত ও আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এখানে কাউকে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার বা শুল্ক আদায় করতে দেওয়া হবে না। এর বিপরীতে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও আইনসভার স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রণালির সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না।