সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজে ‘মধ্যস্থতাকারী’ পাকিস্তানের জাহাজ আটকাল ইরান

ইরানের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার পাকিস্তানের একটি তেলবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

হরমুজে ‘মধ্যস্থতাকারী’ পাকিস্তানের জাহাজ আটকাল ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার পাকিস্তানের একটি তেলবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় ‘সেলেন’ নামের ওই জাহাজটিকে থামানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরান-মার্কিন সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মনোনীত দেশ পাকিস্তানের জাহাজ আটকের এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, সেলেন নামের পাকিস্তানের পতাকাবাহী ওই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির দিকে যাচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেওয়ায় সেটিকে আটক করা হয়।

আটকের পর জাহাজের ক্যাপ্টেন ও ক্রুদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইআরজিসি জাহাজটি ছেড়ে দিলেও সেটিকে আর হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে জাহাজটিকে বিকল্প পথে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ ব্যবহারের চেষ্টা করায় জাহাজটিকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে অবশ্যই ইরানের নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতি গ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই পথে অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু দেশ সংকটের মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের জাহাজ আটকের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সাধারণত ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক বিদ্যমান। এছাড়া বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পাকিস্তান নিজেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। এমন কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই জাহাজ আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।