ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতে তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদেশি নাগরিক এবং একজন স্থানীয় টারনেট দ্বীপের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনো অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
উত্তর হালমাহেরা জেলার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার ভোরের দিকে আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং জ্বালামুখ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। অগ্ন্যুৎপাতের সময় ওই এলাকায় থাকা সাতজন পর্বতারোহী অক্ষত অবস্থায় নিচে নেমে আসতে পারলেও ১০ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত মাসে আগ্নেয়গিরির অস্বাভাবিক আচরণের কারণে ওই অঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও জাতীয় উদ্ধারকারী দল পাহাড়ি এলাকায় যৌথভাবে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় স্ট্রেচারে করে হতাহতদের নিয়ে আসতে হচ্ছে। এছাড়া আগ্নেয়গিরি থেকে অনবরত নির্গত গর্জন উদ্ধারকারীদের জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
সরকারি ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, অগ্ন্যুৎপাতের শুরুতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আগ্নেয়গিরির ছাই উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়ায় তোবেলো শহরসহ নিকটবর্তী আবাসিক এলাকাগুলোতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক ব্যবহার ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।