যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি সাধারণ ইয়টকে গতিপথ পরিবর্তনের বাধ্য করতে সতর্কতামূলক গুলি বর্ষণ করেছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেপরোয়া বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারপ্রধান অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অবরুদ্ধ করার যে ঘটনা ঘটেছিল, তার সঙ্গে এই গোলবার্ষণের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইংলিশ চ্যানেলে এক ব্রিটিশ দম্পতির ব্যক্তিগত ইয়টকে কেন্দ্র করে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ওই ব্রিটিশ ইয়টটি সেই সময় সাগরে অবস্থানরত রাশিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচের’ অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে এবং একটি সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে। রুশ নৌবাহিনীর ক্রুরা বিষয়টি টের পেয়ে বারবার ইয়টটির সঙ্গে বেতার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই সংঘর্ষ এড়ানোর কৌশল হিসেবে তারা সাগরে সতর্কতামূলক কামানের গোলাবর্ষণ করে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আইল অফ উইট থেকে মাত্র ২০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে এই ঘটনাটি ঘটেছে, যা সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ জলসীমার বাইরে। তারা ইয়টটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি বলেও দাবি করেছে।
তবে রুশ নৌবাহিনীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন ইয়টে থাকা ভুক্তভোগী ব্রিটিশ দম্পতি। তাদের দাবি, তাদের নৌযানটি কোনোভাবেই রুশ যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিমুখে ছিল না। রাশিয়ার এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাকে ‘চিরাচরিত মিথ্যাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
এদিকে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, গত রোববার রুশ তেলের ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনার জেরে এই সতর্কতামূলক গুলির ঘটনা ঘটেনি, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।