শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দেওয়া দেশগুলোকে ইরান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে:মোহসেন রেজাই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংঘাতে কোনো দেশ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দেওয়া দেশগুলোকে ইরান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে:মোহসেন রেজাই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংঘাতে কোনো দেশ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের এই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যুক্ত হয়, তাহলে তেহরানও তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

এর আগে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে। তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ছয় মাস ধরে চলা এই বিরোধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।

এদিকে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মোহসেন রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী হামলার কারণে বিশ্বের কিছু দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে চলার পরও যদি কোনো দেশ হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—“আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?”

রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পর কিছু দেশ মনে করছে, নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করাই হয়তো কার্যকর পথ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যখন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটির (এনপিটি) সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনও দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

রেজাই বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে এনপিটি বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্যপদ কোনো কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ‘আকাঙ্ক্ষা’ আরও বাড়ছে।

সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও সরাসরি সতর্ক করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ জড়ালে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে “এক ফোঁটা তেলও” বের হতে দেবে না তেহরান।

মোহসেন রেজাই জানান, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক আচরণেও পরিবর্তন আনবে।

ইরানের এই কর্মকর্তার দাবি, সামরিকভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।