শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছে: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানে অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই অভিযানে ওয়াশিংটনের শক্তি প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইরানে চলমান অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছে: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানে অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই অভিযানে ওয়াশিংটনের শক্তি প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইরানে চলমান অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানবিরোধী অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক সেনার পাশাপাশি ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরি এবং একাধিক শক্তিশালী বোমারু বিমান অভিযানে অংশ নিয়েছে। কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটিই শেষ নয়; ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তাও পাঠানো হচ্ছে।

অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সেইসব সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা, যেখান থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুপার দাবি করেন, মার্কিন আক্রমণে ইরানের নৌবাহিনী গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে কার্যকর সাবমেরিনসহ অন্তত ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে আকাশপথ এবং সাইবার জগত—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত ও ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে তাদের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এই তৎপরতা ইঙ্গিত করে, ওয়াশিংটন ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত চাপে ফেলতে চায়।

মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও ব্যাপক হামলা ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত করেছে। অভিযানের শুরু থেকে ইরানের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো নিয়মিতভাবে মার্কিন বোমারু বিমানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতির কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানকে সীমিত পদক্ষেপ হিসেবে নয়; বরং ইরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে। সমুদ্র ও আকাশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস