ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সাথে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এবং ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে সবখানেই সমালোচনার মুখে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরানের হুমকি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অস্বীকার করা অথবা মিথ্য তথ্য দেওয়া ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি বিরোধীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিতর্কের সূত্রপাত হয় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের একটি মন্তব্যে। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে এফবিআইয়ের সতর্কবার্তাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে লিভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের জন্য ইরান কখনও হুমকি ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।
তার এই বক্তব্য ডেমোক্র্যাট শিবিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সিনেটর ক্রিস মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে প্রশাসন বলছে ইরান কোনো হুমকি নয়, অন্যদিকে আমরা যুদ্ধে লিপ্ত এবং সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এই হিসাব মেলানো কঠিন।
অথচ যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন যে, ইরান থেকে আমেরিকার ওপর ‘আসন্ন’ হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, স্বৈরাচারী ইরানকে আমেরিকার জন্য বিপজ্জনক হওয়া থেকে রুখতেই এই অভিযান। ফক্স নিউজকেও তিনি একই কথা বলেছিলেন। এখন প্রেস সেক্রেটারির ভিন্ন সুর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করছে।
জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং ট্রাম্পের ব্যর্থতা
এদিকে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করার এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি উল্টো। যুদ্ধের প্রভাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম এক মাসে ২.৯৪ ডলার থেকে বেড়ে ৩.৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় জরুরি মজুদ ব্যবহার করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ট্রাম্প এখন উচ্চ তেলের দামকে ইতিবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, তাই তেলের দাম বাড়লে আমেরিকার আয় বাড়ে। তার এই অবস্থান পরিবর্তনের কঠোর সমালোচনা করেছেন রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তেলের উচ্চমূল্য যদি ভালোই হয়, তবে ট্রাম্প কেন ক্ষমতায় আসার আগে দাম কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন? কেন তিনি উচ্চমূল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে যাননি?
সূত্র: মিডিল ইস্ট আই