শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধ শেষ হলে দাম কমবে জ্বালানির : মার্কিন অর্থমন্ত্রী

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

ইরান যুদ্ধ শেষ হলে দাম কমবে জ্বালানির : মার্কিন অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বিজনেস নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই পূর্বাভাস দেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে তেলের বাজার অস্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী ধাপে জ্বালানির দাম অনেকটা কমে আসবে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা শান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের বাজার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। গত মঙ্গলবার দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। খুচরা পর্যায়ে এক দিনেই গ্যালনপ্রতি দাম ৭ সেন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক মাসের মধ্যে এক দিনে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত গ্যাসোলিনের দাম প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, জ্বালানি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বেকার হিউজের তথ্যমতে, তেলের উচ্চমূল্যের এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের যন্ত্র সংখ্যা বাড়িয়েছে। গত মার্চের পর এই প্রথম ধারাবাহিকভাবে দুই সপ্তাহ খনন কার্যক্রম বৃদ্ধির এমন প্রবণতা দেখা গেল, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরলে সাধারণ গ্রাহকরা জ্বালানি খরচের ক্ষেত্রে স্বস্তি পাবেন।