শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধের ৫০ দিনে ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলার

ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত বর্তমানে একটি ভয়াবহ বৈশ্বিক জ্বালানি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে গত ৫০ দিনে বিশ্ববাজারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যে ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ইরান যুদ্ধের ৫০ দিনে ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলার
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত বর্তমানে একটি ভয়াবহ বৈশ্বিক জ্বালানি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে গত ৫০ দিনে বিশ্ববাজারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যে ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলো বন্ধের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। যদিও লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ৪৭ দিন পর একবার প্রণালিটি সচল হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকায় ইরান পুনরায় এটি বন্ধ করে দেয়। রয়টার্স এই পরিস্থিতিকে আধুনিক ইতিহাসের সবথেকে বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসের মোট চাহিদার সমান। এই বিপুল পরিমাণ তেলের ঘাটতি মানে হলো টানা ১০ সপ্তাহ সারা বিশ্বের সব ফ্লাইট চলাচল কমিয়ে আনা অথবা অন্তত ১১ দিন বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সড়ক পরিবহন বন্ধ রাখা। আরও স্পষ্টভাবে বললে, এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে পুরো ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব অথবা মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ৬ বছরের জ্বালানি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। এমনকি বিশ্বজুড়ে শিপিং ইন্ডাস্ট্রিগুলোও এই তেল দিয়ে প্রায় ৪ মাস সচল রাখা যেত।

এই যুদ্ধের প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ছয়টি আরব দেশের তেল বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০৬ মিলিয়ন ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। শুধু মার্চ মাসেই উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা বিশ্বের দুই বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিল ও শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো থেকে বিমান জ্বালানি রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে; যেখানে ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ব্যারেল রপ্তানি হতো, তা বর্তমানে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে। এছাড়া মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে এই সংকট বিশ্ববাজারকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।