যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ছাড়াই দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রচলিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছে ওয়াশিংটন।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এই ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি স্বাক্ষর করার কোনো নিয়ম বা প্রচলন নেই।
গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এর আগে ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কার্যকালে যে বহুপাক্ষিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেখানেও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কোনো দাপ্তরিক স্বাক্ষর ছিল না।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সরাসরি স্বাক্ষর করা সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। ফলশ্রুতিতে বর্তমান সমঝোতা স্মারকেও তার স্বাক্ষর না থাকাটা কোনোভাবেই অস্বাভাবিক বা আকস্মিক কিছু নয়, বরং এটি আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ইরানের পক্ষে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আলোচনার মূল নেতৃত্বদানকারী এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই মুহূর্তে তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অন্যতম প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই কারণেই তিনি রাষ্ট্রীয় বিধি মেনে ইরানের পক্ষে এই ঐতিহাসিক নথিতে মূল স্বাক্ষরকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকে ইতিমধ্যে ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং এর সফল বাস্তবায়নের প্রতি তার প্রশাসনের দৃঢ় ও স্পষ্ট অঙ্গীকার বিশ্বমঞ্চে ফুটিয়ে তোলা যায়।
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ের ডিজিটাল স্বাক্ষর গ্রহণের কাজ সম্পন্ন হলেও আগামী শুক্রবার এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে একটি আনুষ্ঠানিক ও দ্বিপাক্ষিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত এই সমঝোতা স্মারকটিকে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। যদিও চুক্তির অভ্যন্তরীণ সমস্ত শর্ত ও খুঁটিনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও উভয় পক্ষই এই উদ্যোগকে আগামী দিনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।