পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ঘোষিত অবরোধের পাশাপাশি সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর শুরু হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই প্রণালি ব্যবহার করে অন্য দেশে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তারা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চরম উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের মুখে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের কোনো হুমকির কাছে মাথানত করবে না। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজ সরাসরি কিছু নিশ্চিত না করলেও তাদের সব বিকল্প পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অন্যায্য তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিষয়ে সব পথই উন্মুক্ত রেখেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট পরবর্তী সময়ে ঠিক কী করবেন, সে বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা তথ্যগুলো কেবলই অনুমান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী এই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী যে কোনো জাহাজকে অবরোধ করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই নৌপথের কাছাকাছি আসা যে কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তারা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সরাসরি বৈঠক ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরান এখন আলোচনায় ফিরে আসুক বা না আসুক, তাতে তার কিছু যায় আসে না। আলোচনার সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর তিনি আর নির্ভর করতে চান না বলেও সাফ জানিয়ে দেন।